সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর শ্রমিক রমিজ উদ্দিন (২৫) পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। শরীরে বিভিন্ন স্থানে পোড়া ক্ষত। পাশাপাশি চোখের সমস্যা রয়েছে তাঁর। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তবে এখনই ছাড়া পাচ্ছেন না। গত শনিবার বিএম ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণের পর এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৬। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। সেখানে সোমবার পর্যন্ত ১১০ জন ভর্তি ছিলেন। আর গতকাল ছিলেন ৫৯ জন। বাকিরা চিকিৎসা শেষে ফিরে গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর ২২ জনকে আনা হয় ঢাকায়। গতকাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন ২০ জন। তাঁদের মধ্যে তিনজন—মাগফারুল ইসলাম (৬৫), গাউসুল আজম (২২) ও রবিন (২২) আইসিইউতে ভর্তি। গাউসুল আজমের শরীরের ৭০ ও রবিনের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দুজনকে পাঠানো হ চমেক হাসপাতালে ভর্তি আহত ব্যক্তিদের একজন জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। ১১ বছর ধরে বিএম ডিপোতে কাজ করছেন। বিস্ফোরণে জাহাঙ্গীরের কোমর ও হাত পুড়ে গেছে। চোখ এখনো লাল হয়ে রয়েছে। আরও কয়েক দিন তাঁকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের ইউনিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একেবারে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। এখন শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তবে কষ্ট হচ্ছে খুব। বাঁ চোখটি এখনো লাল।
গতকাল পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ১২ জন, সার্জারি বিভাগে ১৮ জন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ২ জন, ইউরোলজি বিভাগে ১ জন এবং বার্ন ইউনিটে ২৬ জন ভর্তি রয়েছেন। বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত গতকাল বিকেলে প্রথম news rকে বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। পোড়া ১০ শতাংশের নিচে। এদিকে বিএম ডিপোর ঘটনা তদন্তে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা ছয়টি পৃথক কমিটি করেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৯ সদস্যের কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আগামী রোববার তাঁদের পাঁচ কর্মদিবস শেষ হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে তাঁরা সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান।

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
0 Comments